দোতালায় ব্রাহ্মণ, হাত দিছে বাড়িয়ে,
নাপিতের বউঠান দেয় তারে তাড়িয়ে।
বউ বলে দেখ তো আসলেই ভিক্ষারী?
নাকি সন্যাশী বেশ আশা, ভন্ড শিকারী।
হয় যদি ভিখারী দাও না কেন থামিয়ে
ঘাড় ধরে ঠ্যালা মেরে নিচে দাও নামিয়ে।
কোথা তারে দেখেছি যে,মনে তো পড়ে না।
একভাবে চেয়ে থাকে, চোখ তার লরে না।
ভেবেছিল হয়তো সে পাবে আজ প্রতিদান,
একটু ও বুঝিনি সে, হতে হবে অপমান।
নাম, বেটা নিচে নাম,আসছো কেন উপরে?
মুখটা তো চেনা চেনা বাড়ি কই বাপুরে?
ঘর-বাড়ি নেই আমার,আমি থাকি রাস্তায়,
ফুটপাতে রাত কাটে,খানা খাই সস্তায়।
এক সময় সবই ছিল, বাড়ি-গাড়ি, সংসার,
গরু-ছাগল জোত-জমি, ঠিক যেন জমিদার
সবকিছু হারিয়ে, আজ আমি নিঃস্ব
চিনতে কি পারনি? কেন করো তুচ্ছ?
ভিক্ষার থালা হাতে, আমি সেই ব্রাহ্মণ।
যার ছোঁয়া পেতে হলে,অপেক্ষা সারাক্ষণ।
বিবেকের তাড়নায় লিখে দিছি বাড়ি ঘর,
মন চায় ফিরে দেখি, কি সুরাৎ হলো তার।
বাহ! কি সুন্দর পাকা বাড়ি করছো,
এতক্ষনে হয়তো, আমি কে ধরছো।
ছোট ছিলে তুমি তখন, জানে সব সুধারাম,
সবকিছু লিখে দিছি,দেয়নি তো কোন দাম।
বউ বলে ভিখারি, উপরে কেন উঠছে?
এত কথা কেন বলে, মুখ তার ফুটছে?
চোখ মুখ দিয়ে বলে, আগে নিচে নাম,
তারপরে দিয়ে দিব, কত তোর দাম।
সিড়ি দিয়ে নেমে যাই, মনে মনে ভাবি
এসেছিলাম দেখিতে,করিনি তো দাবি।
এই বাড়ি, এই ঘর, সব কিছু বেঁচে,
খালি হাতে বেরিয়েছি, সন্ন্যাসী বেশে।
দেশে দেশে ঘুরি ফিরি-মনে নাই শান্তি।
ফিরে দেখি নিজ গৃহে, মিটে যদি ক্লান্তি।
ভেতরটা না দেখিলেও, বাহিরটা দেখা যায়,
বাহিরের রঙ দেখে,ভেতরটা চেনা দায়।
একদিন বউ মাকে বলবে সব খুলিয়া
আমি কিন্ত ব্রাহ্মণ, কেন যাও ভুলিয়া।
হয়তো তা ক্ষমা পাবে, দুনিয়ার সব পাপ।
ক্ষমা নাই যদি লাগে, ব্রাহ্মণের অভিসাপ।
ভগবান থামালে হয়তো আজ থামবো।
নামছি তো বহু নীচে আর কত নামবো।
তোমরা না বুঝলেও, বুঝে তা সকলে
ব্রাহ্মণের বাড়ি এখন নাপিতেরই দখলে।









