নাজমাতুল লায়লা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
কবি নাজমাতুল লায়লা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকে ১৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নজরুল ইসলাম এবং মাতা সুলতানা রিজিয়ার অতি আদরের একমাত্র কন্যাসন্তান l তিনি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করেন l অল্প বয়সেই তিনি বাবার অনুপ্রেরণাতেই সাহিত্যচৰ্চায় তাঁর হাতেখড়ি। বর্তমানে তাঁর পিতৃতুল্য শিক্ষাগুরু নিশিকান্ত সিনহা লেখালেখিতে উৎসাহ যোগান l শৈশবই বাবার উৎসাহে আবৃত্তিচর্চা শুরু করেন, যা এখনো বহমান। তিনি লেখালেখি এবং আবৃত্তির জন্য বহু পুরস্কার, সনদপত্র, সম্মাননা পেয়েছেন এবং বিশ্ব শান্তির দূত
মনোনীত হয়েছেন।
কবিতাগুচ্ছ
কবিতা-১. রক্তাক্ত পাঁজর
কতটা আঘাত পেলে নীরব হয়ে যায়!
কতটা কষ্ট পেলে বুকের পাঁজর রক্তাত হয়,
কতটা যন্ত্রনা পেলে পাথর হয়ে যায়।
কতটা পরিস্থিতির শিকার হলে থমকে দাঁড়ায়,
কতটা অসহায় হলে আকাশের দিকে তাকায়!
কতটা অভিমান হলে চোখের জল গড়িয়ে যায়।
কতটা উদার হলে প্রতিনিয়ত তুষের অনলে ছাই হয়!
কতটা নিস্বার্থ হলে এই সমাজ ভুলে যায়,
কতটা বে’হিসেবি হলে অতীত ভুলে যায়!
কত কত কত আর কতটা হলে দেউলিয়া হয়ে যায়?
কতটা হলে পাগল বেশে হারিয়ে যায়
আর কতটা হলে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়….!!
কবিতা-২. আতঙ্ক
স্বপ্নগুলো আজ কোন পথে?
খুবড়ে খায় দাবানলের দল
স্বপ্ন আজ গহ্বরে,
মানুষ আজ মেতেছে লেলিহান আগুনের খেলায় l
আর এই লেলিহান শিখা গ্রাস করে চলেছে
ছোটো থেকে বড় সবাইকে,
আতঙ্কের ভয়ে আজ মরছে সবাই ধুঁকে ধুঁকে
প্রানহীন জন মানবহীন এই শহর-
রাতের অন্ধকারে কারা যেন পিছু নেয়
ঘুমোতে দেয়না নিশ্চিন্তে l
কবিতা-৩. পরিত্রাণ
বছর ঘুরে এলো আবার মাহে রমজান
সিয়াম পালন করবে সবাই যাকাত করবে দান,
বরকতের এই মাসে সবাই রাখবে গুনাহ দূরে
খুশি মনে রাখবে রোজা রবের রহম পেতে।
মনের যত সব কালিমা দেবে এবার মুছে
রবের প্রতি ভলোবাসা রাখবে হৃদয় জুড়ে,
এসেছে যখন মাহে রমজান আসবে সবেকদর
ঝরবে তাহার রহমত এই ধূলির ধুলার পর।
আসে ইঙ্গিত লক্ষ মুখে অজস্র ধারায়
কত অপলক দৃষ্টি জাগে আজও সে পথের দিশায়,
এই মাসেতেই নাজিল হয়েছিল পবিত্র কোরান
তাইতো মুমিন এ’মাসেতে খোঁজে পরিত্রান।।
কবিতা-৪. অপেক্ষা
দিনের যাবতীয় কোলাহল শেষে নেমে আসে নিকষ কালো বিষণ্ণ রাত,
বুকের পাঁজর ভেঙে যায় একাকী নিশিতের প্রতিটি প্রহরে–
জীবনের পথে প্রতি পদে ঘুরে ফিরে প্রতিনিয়ত জীবন্তলাশ আশাহত হৃদয়ে
কত হেঁটেছি সেই পথে আশার আলো দেখবো বলে!
আজ এক পরাজিত সৈনিকের ন্যায় আত্মসমর্পণ করেছি সংগোপনে;
একাকী জীবন বিষে বিষাক্ত নিমজ্জিত অহরহ–
পান করে চলেছি প্রণয়ের বিষ পেয়ালা প্রতিনিয়ত!
কবে যে পাঁজরের খোলা জানালা দিয়ে উড়ে গেছে আশার বালিহাস–
শে খবর কাক-পক্ষীও বোঝে নি।
কাগজের নৌকো কি চিরদিন জলে ভাসে-জীবনের আপেক্ষিক সময়ে?
এই মায়ার পৃথিবীতে কেউ কি থাকে অপেক্ষায়?
কবিতা-৫. সকলের রবি
ভীষণ রকম মন খারাপে যখন দেখবে কেউ নেই পাশে
মন কেমনের উথালপাথাল ভীষণ রকম একলা ঢেউয়ে,
নিজেই যখন নিজের সঙ্গে লড়তে লড়তে ভীষণ ক্লান্ত
বন্ধু তখন তোমার হাতের কাছে রেখো গীতবিতান l
আপন মনে গেয়ে উঠবে কয়েক লাইন
দেখবে মনে সকল দুঃখ এক নিমেষে জুড়ায় প্রাণ,
ভোরের আলোর শীতল বাতাস ধুইয়ে দেবে তার কবিতাখানি
বন্ধু তখন তোমার হাতের কাছে রেখো গীতাঞ্জলি ll









