যৌবনের অখন্ড প্রভাব এমনই যখন মৃত্যু ভয় থাকে দূরের কোনো গ্রহে, তার ছায়াও পড়ে না উলঙ্গ চোখে। তখন স্বপ্নরা থাকে আকাশভরা, আর ইচ্ছেগুলো থাকে নদীর স্রোতের মতো- একটি শেষ হওয়ার আগেই যেন জন্ম নেয় আরেকটি ।
তখন কাককেও বসন্তের কোকিল মনে হয়,
জলাশয়ের উন্মুক্ত নালাকে নদী মনে হয়,
মেঘের ছায়াকে মনে হয় পাহাড়ের উদগ্র মহিমা।
দূরের অচেনা শহরকে কখনও দূরের মনে হয় না, নদীর ওকূলকে মনে হয় পায়ের তলার নীচে চেনা খেয়াঘাট।
কখনও কখনও অদ্ভুত সব ইচ্ছে জাগত- মনে হতো তাড়াতাড়ি বুড়ো হয়ে যাই না কেন! যেন সবাই সম্মান করে, কথার ভেতরে একটা ওজনদার আওয়াজ ওঠে। সকলেই গুরুত্ব দিবে, মান্য করবে, আর ভেতরে ভেতরে গর্বে অনুরণিত হবে অনুভবের বিস্ফোরণ।
যৌবনে তাই শ্মশানের ধোঁয়া বা গোরস্তানের নীরবতা মনকে ছুঁয়ে যায় না। মনে হয়- এ সব অন্য কারও গল্প। কিন্তু সময়ের হালখাতার পাতা উল্টাতে উল্টাতে একদিন হঠাৎ দেখি- বয়সের হালখাতা খুলে গেছে। সেখানে জমে আছে বার্ধক্যের অপূর্ণতা, ভুল আর কিছু নীরব অনুতাপ।
তাই আজকাল একটি দিন পার হলেই মনে হয়- আরেকটি দিন কমে গেল। বয়সের হালখাতার শেষ পাতায় কী লেখা আছে তা কেউ জানে না।
আমিও জানি না। তবু প্রতিটি নতুন ভোর নতুন করে বলে যায় জীবন আলো এখনও শেষ হয়নি, এখনও বাকি আছে আরেকটি দিনের গল্প।










