কবি তুমি মানুষ নও
সবার আগে তুমি মানুষ হও
তুমি সমাজের আবর্জনা দূর করতে কলম হাতে নাও
কিন্তু একটা সময় তুমি নিজেই সমাজের আবর্জনা হও
কবি তুমি সত্যি মানুষ নও!
রাতের পর রাত জেগে থাকো
চোখের নিচে নিদ্রাহীন কালি জমুক
পরিবার পরিজন ছেড়ে হয়ে উঠো উজবুক
কলমের পর হয় কলম ক্ষয়
শব্দ ভেঙে শব্দের পরাজয়
পরিচর্যাহীন অযত্নের জীবন
ঝাঁকড়া চুলের সঙ্গী বরণ
তবুও সমাজকে দিতে নিজেই আবর্জনা হও
তাই বলি কি কবি তুমি আগে মানুষ হও!
বেঁচে থাকতে জুটে না সম্মান
মৃত্যুর পর যদিও মিলে মরণোত্তর
কি বা এসে যায় এই সান্ত্বনায়?
কবিদের কথা কি সমাজ ভেবেছে কখনো
যে সমাজকে বিলিয়ে দিতে কবির আপ্রাণ চেষ্টা?
কবিদের অবহেলিত জীবন
নিঃশব্দ রাতের কোণে বসে
একজন কবি লিখে যায় অশ্রুর গল্প
তার কলমে জেগে ওঠে হাজার মানুষের বেদনা
কেউ হাসে, কেউ কাঁদে, কেউ ভালোবাসে
কিন্তু কেউ কি ভাবে একবার,
কবির হৃদয়ে কতটা ঝড় বয়ে যায়?
ভাঙা স্বপ্ন,অপূর্ণ আশা
লুকিয়ে থাকে কবিতার প্রতিটি লাইনে
কারণ কবিতাই তার শেষ আশ্রয়।
যেদিন কবি থাকবে না,
হয়তো তখন মানুষ বুঝবে
যে মানুষটা নীরবে লিখে যেত
সবার হৃদয়ের অজানা কথা।
কবির শব্দে জেগে ওঠে ভালোবাসা আর ব্যথা
তবু তার নিজের দুঃখ থাকে অজানা কথা
অবহেলার ভিড়ে হারিয়ে যায় কবির চাওয়া
তবু লিখে যায় কবিতা না হোক সকল পাওয়া
হয়তো একদিন মানুষ বুঝবে তার মর্ম
যে কবি লিখেছিল সবার সুখ-দুঃখের ধর্ম
নীরবে সহ্য করে যত অবহেলা আর ক্ষত
তবু কলম থামে না এটাই কবির সত্য।










