আকাশজোড়া কালো মেঘ
পাহাড় ছুঁয়ে নামে ধীরে,
লেকের বুকে বৃষ্টির ফোঁটা
বৃত্ত আঁকে ফিরে ফিরে।
গাছের পাতায় জলের নূপুর,
বাতাসজুড়ে সোঁদা ঘ্রাণ –
টিনের চালে গমগমিয়ে
বেজে ওঠে বর্ষার গান।
লেকের জল ধীরে ধীরে
উপচে ছোঁয় ঘাসের কিনার,
ভিজে বাতাস মেঘের কাঁধে
লিখে যায় জলেরই খবর।
দূরের পাহাড় ধূসর হয়ে
কুয়াশার চাদরে ঢেকে রয়,
মনে হয় প্রকৃতি যেন
আজ সারাদিন বৃষ্টিই হয়।
কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিতাম
শৈশবের নির্ভার জলে,
কোথায় হারাল সেই নৌকাগুলো,
কোন অচেনা স্রোতের দলে?
আজও বুঝি ভেসে বেড়ায়
অজানা কোনো নদীর বাঁকে –
শুধু আমরাই বড় হয়ে
ফিরতে পারি না তাদের ডাকে।
তেজো কাকু জাল কাঁধে নিয়ে
বৃষ্টিভেজা পথে যেতেন,
ফিরে এসে খলবল মাছে
মুখর হতো সারা উঠোন।
উনুন জ্বলে, হাঁড়ি ফুটে,
মাছের ঝোলে কাঁচামরিচ
ধোঁয়া ওঠা ভাতের গন্ধে
ক্ষুধাও হতো বড় সমৃদ্ধ।
সুখের কত সংজ্ঞা শুনি,
কত হিসেব মানুষ করে
আমার কাছে গরম ভাতে
মাছের ঝোল বর্ষা ভরে।
সেই স্বাদ আজও জিভে লেগে,
সেই ঘ্রাণ আজও ঘরের পথ
জীবন যত দূরে নিয়ে যায়,
স্মৃতি ততই হয় নিকট।
বৃষ্টি শুধু জল হয়ে নামে না,
ফিরিয়ে আনে হারানো কাল;
ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধে
জেগে ওঠে হৃদয়ের জাল।
কিছু প্রশ্ন উত্তর চায় না,
কিছু স্মৃতি ভোলে না মন
বর্ষা এলেই তারা ফিরে
খুলে বসে আপন জীবন।
আজও যখন টিনের চালে
ঝরে পড়ে মেঘের ভাষা,
মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর
শব্দটির নাম – বর্ষা।
আর আমি দাঁড়িয়ে থাকি
জল, মেঘ, বাতাসের পাশে;
যতবার বৃষ্টি নামে,
ততবার ফিরে যাই
কাগজের নৌকার দেশে।





