ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রীতি চাকমা’র কবিতা || আদিম রাত্রির কবিতা

  • আপ : ০২:২২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৬ ভিউ :

 

তোমার দিকে এগিয়ে আসা মানে
সহস্র বছর ধরে শুকিয়ে থাকা এক নদীর
অবশেষে সাগরের গন্ধ পাওয়া।

তোমার দিকে এগিয়ে আসা মানে
শীতশেষে বৃক্ষের প্রথম কুঁড়ি ফোটা,
দীর্ঘ খরার পর মাটির গায়ে
বৃষ্টির প্রথম বিন্দুর পতন।

আমরা একে অপরকে ছুঁয়ে ছিলাম
যেন দুটি নক্ষত্র
নিজ নিজ কক্ষপথ ছেড়ে
অদৃশ্য কোন মহাকর্ষে বাঁধা পড়েছে।

মনে হয়েছিল,
আমরা এই প্রথম নই –
কোনো এক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে
কোনো প্রাচীন নদীর তীরে
কোনো নক্ষত্রহীন রাত্রির নিচে
আমরা এর আগেও একে অপরকে চিনেছিলাম।

তোমার কপালে মুখ রাখতেই
আমি শুনতে পেয়েছিলাম
অন্ধকারেরও একটি হৃদস্পন্দন আছে।

রাত গভীর হচ্ছিল
আর আমাদের ভেতরে
জেগে উঠছিল সেই প্রাচীন মানুষ,
যে প্রথম আগুন আবিষ্কার করে
প্রথম প্রেমের ভাষাও শিখেছিল।

শরীরের উষ্ণতা ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছিল
দূর নীহারিকার ধুলোর সঙ্গে,
আর সময়, সেই নির্মম প্রহরী
কিছুক্ষণ আমাদের জন্য থেমে ছিল।

আমাদের নীরবতার ভেতর
ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল এক অনন্ত স্রোত –
যেখানে প্রেম মানে দেহ নয় শুধু
প্রেম মানে নিজের সমস্ত একাকিত্ব
অন্যের বুকে রেখে নিশ্চিন্তে চোখ বুজে ফেলা।
প্রেম মানে, দুটি দীর্ঘ নির্বাসনের শেষে
নিজেদের হারানো জল ফিরে পাওয়া।

ভোরের আগে –
আমরা নীরবে পাশাপাশি শুয়ে ছিলাম
দুই নদীর মতো।
যারা সাগরে মিশে গিয়ে
নিজেদের নাম ভুলে গেছে
কিন্তু জলের গভীরে এখনো বহন করে
এক আদিম পৃথিবীর নোনতা স্মৃতি।

রীতি চাকমা’র কবিতা || আদিম রাত্রির কবিতা

আপ : ০২:২২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

তোমার দিকে এগিয়ে আসা মানে
সহস্র বছর ধরে শুকিয়ে থাকা এক নদীর
অবশেষে সাগরের গন্ধ পাওয়া।

তোমার দিকে এগিয়ে আসা মানে
শীতশেষে বৃক্ষের প্রথম কুঁড়ি ফোটা,
দীর্ঘ খরার পর মাটির গায়ে
বৃষ্টির প্রথম বিন্দুর পতন।

আমরা একে অপরকে ছুঁয়ে ছিলাম
যেন দুটি নক্ষত্র
নিজ নিজ কক্ষপথ ছেড়ে
অদৃশ্য কোন মহাকর্ষে বাঁধা পড়েছে।

মনে হয়েছিল,
আমরা এই প্রথম নই –
কোনো এক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে
কোনো প্রাচীন নদীর তীরে
কোনো নক্ষত্রহীন রাত্রির নিচে
আমরা এর আগেও একে অপরকে চিনেছিলাম।

তোমার কপালে মুখ রাখতেই
আমি শুনতে পেয়েছিলাম
অন্ধকারেরও একটি হৃদস্পন্দন আছে।

রাত গভীর হচ্ছিল
আর আমাদের ভেতরে
জেগে উঠছিল সেই প্রাচীন মানুষ,
যে প্রথম আগুন আবিষ্কার করে
প্রথম প্রেমের ভাষাও শিখেছিল।

শরীরের উষ্ণতা ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছিল
দূর নীহারিকার ধুলোর সঙ্গে,
আর সময়, সেই নির্মম প্রহরী
কিছুক্ষণ আমাদের জন্য থেমে ছিল।

আমাদের নীরবতার ভেতর
ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল এক অনন্ত স্রোত –
যেখানে প্রেম মানে দেহ নয় শুধু
প্রেম মানে নিজের সমস্ত একাকিত্ব
অন্যের বুকে রেখে নিশ্চিন্তে চোখ বুজে ফেলা।
প্রেম মানে, দুটি দীর্ঘ নির্বাসনের শেষে
নিজেদের হারানো জল ফিরে পাওয়া।

ভোরের আগে –
আমরা নীরবে পাশাপাশি শুয়ে ছিলাম
দুই নদীর মতো।
যারা সাগরে মিশে গিয়ে
নিজেদের নাম ভুলে গেছে
কিন্তু জলের গভীরে এখনো বহন করে
এক আদিম পৃথিবীর নোনতা স্মৃতি।