ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পলক রহমান এর কবিতা || পোড়া বাঁশি

  • আপ : ০৫:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৪
  • ৪২৯ ভিউ :

 

রোম নগরী পোড়ার সময় নাকি- নিরো নির্ভার বাঁশি বাজিয়েছিলেন। কি জানি? হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। ইতিহাসবিদদের চোখ দিয়ে, অন্তর দৃষ্টিতে নিবু নিবু দেখি সে দৃশ্য, মননের কান দিয়ে- অস্পষ্ট শোনার চেষ্টাও করি, সে বাঁশির সুর।

তখনও কি রাজাকার রাজনীতিবিদ, আমজনতা ছাত্র ইতিহাসবিদ, কবি লেখক গল্পকার, গায়ক বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক- চাটুকাররা ছিল? কি জানি? থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। তা নাহলে নিরোকে আত্মহত্যা করতে হল কেন, কেন বলতে হল-‘কোয়ালিস আর্টিফেক্স পেরেও’।

যুগে যুগেই – যে রোমগুলো পুড়েছে, এমন কিছুই হয়নি ভেবে, সে রোমের নিরোরা নাকি, আয়েসি অহংকারে বাঁশি বাজিয়েছে। নিজেরাই নাকি দেশ কিনেছে, দেশ বেচে দিয়েছে, সম্পদ লুট করেছে, সে সব দেখা হয়নি, জানা হয়নি, তা নির্দ্বিধায় বলছি।

কিন্তু এবার তো নিজেরাই- সাধের স্বাধীন দেশে, রোমের মত রক্তঝরা লেলিহান শিখায়, পুড়ে পুড়ে যাচ্ছি। স্ব-চোক্ষে দেখছি, শ্লোগানে শ্লোগানে ভয়ংকর উচ্চারণে, সহস্র কন্ঠে, নাগরিক ন্যায্য দাবির আড়ালে-অকার্যকর নৈতিকতা, দেশপ্রেম, আর সংবিধান সংস্কারের- সুর শুনছি প্রতিদিন। অথচ- নিরোরা যেন বাঁশি নিয়েই ব্যস্ত আছেন!

কি ভয়ংকর! দেশ পুড়ছে, কোল খালি হওয়া সন্তানের মায়ের বুক পুড়ছে, মেধা পুড়ছে, শিক্ষা পুড়ছে, সম্পদ পুড়ছে, স্বাধীনতা পুড়ছে, বিশ্বায়নের লাল-সবুজের পতাকা পুড়ছে, অথচ২ নিরোরা যেন মনের আনন্দে সভায়, সেমিনারে, টক-শোতে, বাহারি জলসায় বাঁশি বাজাচ্ছে। তাহলে কি? ইদানিং রোমের ছায়া এসে পড়েছে, আমার সোনার বাংলাদেশে!

 

পলক রহমান এর কবিতা || পোড়া বাঁশি

আপ : ০৫:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৪

 

রোম নগরী পোড়ার সময় নাকি- নিরো নির্ভার বাঁশি বাজিয়েছিলেন। কি জানি? হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। ইতিহাসবিদদের চোখ দিয়ে, অন্তর দৃষ্টিতে নিবু নিবু দেখি সে দৃশ্য, মননের কান দিয়ে- অস্পষ্ট শোনার চেষ্টাও করি, সে বাঁশির সুর।

তখনও কি রাজাকার রাজনীতিবিদ, আমজনতা ছাত্র ইতিহাসবিদ, কবি লেখক গল্পকার, গায়ক বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক- চাটুকাররা ছিল? কি জানি? থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। তা নাহলে নিরোকে আত্মহত্যা করতে হল কেন, কেন বলতে হল-‘কোয়ালিস আর্টিফেক্স পেরেও’।

যুগে যুগেই – যে রোমগুলো পুড়েছে, এমন কিছুই হয়নি ভেবে, সে রোমের নিরোরা নাকি, আয়েসি অহংকারে বাঁশি বাজিয়েছে। নিজেরাই নাকি দেশ কিনেছে, দেশ বেচে দিয়েছে, সম্পদ লুট করেছে, সে সব দেখা হয়নি, জানা হয়নি, তা নির্দ্বিধায় বলছি।

কিন্তু এবার তো নিজেরাই- সাধের স্বাধীন দেশে, রোমের মত রক্তঝরা লেলিহান শিখায়, পুড়ে পুড়ে যাচ্ছি। স্ব-চোক্ষে দেখছি, শ্লোগানে শ্লোগানে ভয়ংকর উচ্চারণে, সহস্র কন্ঠে, নাগরিক ন্যায্য দাবির আড়ালে-অকার্যকর নৈতিকতা, দেশপ্রেম, আর সংবিধান সংস্কারের- সুর শুনছি প্রতিদিন। অথচ- নিরোরা যেন বাঁশি নিয়েই ব্যস্ত আছেন!

কি ভয়ংকর! দেশ পুড়ছে, কোল খালি হওয়া সন্তানের মায়ের বুক পুড়ছে, মেধা পুড়ছে, শিক্ষা পুড়ছে, সম্পদ পুড়ছে, স্বাধীনতা পুড়ছে, বিশ্বায়নের লাল-সবুজের পতাকা পুড়ছে, অথচ২ নিরোরা যেন মনের আনন্দে সভায়, সেমিনারে, টক-শোতে, বাহারি জলসায় বাঁশি বাজাচ্ছে। তাহলে কি? ইদানিং রোমের ছায়া এসে পড়েছে, আমার সোনার বাংলাদেশে!