ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রীতি চাকমা’র কবিতা || উত্তরের খোঁজে

  • আপ : ১২:১৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৪২ ভিউ :

 

সন্ধ্যা নামলে আমার মনে হয় –
পৃথিবীতে আসার আগে আমি কোথায় ছিলাম?
এই যে নদীর জলে আলো কেঁপে ওঠে,
এই যে দূরের পাহাড় নীল হয়ে যায়,
এদের সঙ্গে কি আমার কোনো পুরোনো পরিচয় আছে?
কখনও মনে হয়, জীবন বুঝি একটি দীর্ঘ
পথভ্রমণ-
আমরা কেউই গন্তব্য জানি না,
তবু কত যত্নে জুতো বাঁধি,
কত ব্যস্ততায় ঘর বানাই,
কত মানুষকে বলি -“অপেক্ষা করো, আমি আবার ফিরে আসব।”
কিন্তু কোথায় ফিরে আসব?
যে শিশুটি একদিন মায়ের আঁচল ধরে
বৃষ্টির দিকে হাত বাড়িয়েছিল,
সে আজ আয়নায় নিজের মুখ দেখে চমকে ওঠে।চোখের নিচে জমে ওঠা ক্লান্তি দেখে ভাবে-
এই মানুষটি কে?
এ কি সেই মানুষ,
যে একদিন আকাশের সব তারা গুনে ফেলতে চেয়েছিল?
রাতে কখনও ঘুম ভেঙে গেলে
আমার মনে হয়,
আমরা সবাই বুঝি ঘরহারা পাখি।
অন্ধকারে উড়ে চলেছি,
কেউ একজন হয়তো দূরে একটি প্রদীপ জ্বেলে রেখেছে –
কিন্তু সেই আলো কার জন্য,
তা কেউ জানে না।
আমি জীবনের কাছে উত্তর চাই না আর।
শুধু জানতে ইচ্ছে করে –
এই অকারণ মায়া কোথা থেকে আসে?
কেন শুকনো পাতার শব্দ শুনে মন বিষণ্ন হয়?
কেন নদীর দিকে তাকালে মনে হয়
কেউ আমাকে নাম ধরে ডাকছে?
কেন এত মানুষের ভিড়েও
হঠাৎ মনে হয়,
আমি একাই আছি?
হয়তো উত্তর বলে কিছু নেই।
হয়তো মানুষ বেঁচে থাকে
শুধু প্রশ্নগুলোকে বুকে নিয়ে।
তবু প্রতিদিন ভোর হয়,
শালিকেরা ডানা ঝাপটায়,
নদীর জল আবার আলোয় ভরে ওঠে।
আর আমি আবারও মনে মনে বলি –
আজ হয়তো বুঝতে পারব,
কেন এই পৃথিবীতে এসেছিলাম।
তারপর সন্ধ্যা নামে,
আমি আবার নীরবে বসে থাকি
আর দূরের কোনো অচেনা পাখির ডাক শুনে
মনে হয়,
সে-ও বুঝি আমার মতোই
কোনো উত্তরের খোঁজে আছে।

রীতি চাকমা’র কবিতা || উত্তরের খোঁজে

আপ : ১২:১৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

 

সন্ধ্যা নামলে আমার মনে হয় –
পৃথিবীতে আসার আগে আমি কোথায় ছিলাম?
এই যে নদীর জলে আলো কেঁপে ওঠে,
এই যে দূরের পাহাড় নীল হয়ে যায়,
এদের সঙ্গে কি আমার কোনো পুরোনো পরিচয় আছে?
কখনও মনে হয়, জীবন বুঝি একটি দীর্ঘ
পথভ্রমণ-
আমরা কেউই গন্তব্য জানি না,
তবু কত যত্নে জুতো বাঁধি,
কত ব্যস্ততায় ঘর বানাই,
কত মানুষকে বলি -“অপেক্ষা করো, আমি আবার ফিরে আসব।”
কিন্তু কোথায় ফিরে আসব?
যে শিশুটি একদিন মায়ের আঁচল ধরে
বৃষ্টির দিকে হাত বাড়িয়েছিল,
সে আজ আয়নায় নিজের মুখ দেখে চমকে ওঠে।চোখের নিচে জমে ওঠা ক্লান্তি দেখে ভাবে-
এই মানুষটি কে?
এ কি সেই মানুষ,
যে একদিন আকাশের সব তারা গুনে ফেলতে চেয়েছিল?
রাতে কখনও ঘুম ভেঙে গেলে
আমার মনে হয়,
আমরা সবাই বুঝি ঘরহারা পাখি।
অন্ধকারে উড়ে চলেছি,
কেউ একজন হয়তো দূরে একটি প্রদীপ জ্বেলে রেখেছে –
কিন্তু সেই আলো কার জন্য,
তা কেউ জানে না।
আমি জীবনের কাছে উত্তর চাই না আর।
শুধু জানতে ইচ্ছে করে –
এই অকারণ মায়া কোথা থেকে আসে?
কেন শুকনো পাতার শব্দ শুনে মন বিষণ্ন হয়?
কেন নদীর দিকে তাকালে মনে হয়
কেউ আমাকে নাম ধরে ডাকছে?
কেন এত মানুষের ভিড়েও
হঠাৎ মনে হয়,
আমি একাই আছি?
হয়তো উত্তর বলে কিছু নেই।
হয়তো মানুষ বেঁচে থাকে
শুধু প্রশ্নগুলোকে বুকে নিয়ে।
তবু প্রতিদিন ভোর হয়,
শালিকেরা ডানা ঝাপটায়,
নদীর জল আবার আলোয় ভরে ওঠে।
আর আমি আবারও মনে মনে বলি –
আজ হয়তো বুঝতে পারব,
কেন এই পৃথিবীতে এসেছিলাম।
তারপর সন্ধ্যা নামে,
আমি আবার নীরবে বসে থাকি
আর দূরের কোনো অচেনা পাখির ডাক শুনে
মনে হয়,
সে-ও বুঝি আমার মতোই
কোনো উত্তরের খোঁজে আছে।