ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বাসকে লালন করতে হয় || পলক রহমান।

  • আপ : ১২:০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ ভিউ :

 

মানুষ সম্পর্ক গড়ে তোলে হৃদয়ের টানে, কিন্তু সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসের শক্তিতে। পৃথিবীর প্রতিটি সুন্দর সম্পর্কের গভীরে যদি একটি শব্দ খুঁজে নিতে হয়, তবে সেটি হবে—বিশ্বাস। এটি এমন এক অদৃশ্য বন্ধন, যা চোখে দেখা যায় না, অথচ তার উপস্থিতিই আজীবন সম্পর্ককের বন্ধনে নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্য বিলায়।

বিশ্বাস কোনো অলৌকিক ঘটনা নয় যে হঠাৎ করেই জন্ম নেবে। এটি গড়ে ওঠে সময়ের সঙ্গে, ছোট ছোট আচরণে, কথার সততায়, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধায়। প্রতিদিনের ব্যবহার, দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতাই বিশ্বাসের বীজকে একটি বিশাল বৃক্ষে পরিণত করে। আবার একটি মিথ্যা, একটি প্রতারণা কিংবা একটি দায়িত্বহীন আচরণ মুহূর্তেই সেই বৃক্ষকে শিকড়সহ নাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বিশ্বাস অর্জনের চেয়ে বিশ্বাস রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন।

তবে সব সম্পর্কেই বিশ্বাসের অর্থ এক নয়।কেননা এই বিশ্বাস এক এক পরিস্থিতি, সম্পর্ক ও অবস্থানের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সুক্ষ্মভাবে অনুভব করতে পারলে তার বুঝাপড়া ধারণ এবং লালণ করা সহজেই সম্ভব। অন্যথা সম্পর্কের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি থেকে সে সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এখানে মূল যে বিষয়গুলো নিয়ে জীবন এগিয়ে চলে সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে চাই। যেমন:
. বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে
. প্রেম ভালোবাসার ক্ষেত্রে
. বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষত্রে
উল্লেখিত প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস কেমন হবে তা পাতার পর পাতা লেখা যেতে পারে। তবে এখানে খুব স্বল্প পরিসরে এর অবশ্যকরণীয় ও পালনীয় বিষয়হগুলো কি কি তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

বন্ধুত্বের বিশ্বাস হলো নির্ভরতার নিশ্চয়তা। এমন এক আস্থা, যেখানে সুখের দিনে নয়, দুঃসময়ের অন্ধকারেও একজন আরেকজনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি থাকে। প্রকৃত বন্ধু সেই, যার কাছে নিজের দুর্বলতাও নির্ভয়ে তুলে ধরা যায়, কারণ প্রকৃত বন্ধু হলে সে তার দুর্বলতাকে বিচার করবে না বরং বুক দিয়ে আগলে রাখবে।

এখানেই পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে যায় যদি বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষত্রে কোন দুর্বলতা প্রকাশ করা হয়। তাই বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখতে হলে কার সাথে কোথায় কি কথা বলা যায় তার বুঝাপড়া থাকতে হবে। নইলে সমূহ বিপদ। বন্ধুত্বে ক্ষমা করার শক্তিশালী মানসিকতা থাকা বাঞ্চনীয়। তাই বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বন্ধুর অসুবিধা, দুর্বলতা, ভাব প্রকাশের অভাব গুলোকে আন্তরিকতার সাথে মেনে নিতে পারলে বন্ধুত্বে বিশ্বাস টিকে থাকে।

প্রেমে বিশ্বাস রক্ষা করা আরও সাধনার, আরও কোমল, আরও সংবেদনশীল। ভালোবাসার সৌন্দর্য কেবল অনুভূতিতে নয়, বিশ্বাসের গভীরতায়। যেখানে অকারণ সন্দেহ নেই, অযথা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নেই; আছে একে অপরের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান, প্রতিশ্রুতির প্রতি আনুগত্য এবং হৃদয়ের প্রতি হৃদয়ের অকুণ্ঠ আস্থা ও টান। বিশ্বাস হারিয়ে গেলে ভালোবাসা ধীরে ধীরে ভয়ে, অনিশ্চয়তায় এবং দূরত্বের আবরণে ঢেকে যায়।
এই প্রেম এবং ভালোবাসার মধ্যে একটা সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে। প্রেমে কামের অনুরক্ততা বিরাজমান। তাই তাকে উভয়ে দীর্ঘদিনের গভীর বিশ্বাসের আলোয় এনে পরখ করতে হয়। নইলে কোনক্রমেই বিশ্বাস টিকবে না। আর ভালোবাসার ক্ষেত্রে জটিলতা একটু কম হলেও আন্তরিক যোগাযোগ, প্রয়োজনে একতরফা যোগাযোগ রক্ষা করা ছাড়া বিশ্বাসকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

বৈবাহিক জীবনে বিশ্বাস সবচেয়ে পরিণত রূপ ধারণ করে। একে তাই টিকিয়ে রাখতে হলে নিজেকেও পরিনত হতে হয় গভীর ভাবে। এখানে দুটি মানুষ শুধু একসঙ্গে বসবাস করে না; তারা একে অপরের স্বপ্ন, দায়িত্ব, ব্যর্থতা, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎকেও ভাগ করে নেয়। তাই এই সম্পর্কে বিশ্বাস মানে শুধু বিশ্বস্ততা নয়; বরং সম্মান, সহমর্মিতা, স্বচ্ছতা এবং পরস্পরের প্রতি অবিচল নির্ভরতা।
তবে বৈবাহিক জীবনে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উভয়ের কোন ব্যাপারে দুর্বলতা। সেটা কি তা নিজেদেরকেই জানতে হবে, বুঝতে হবে। তো সেই সেই দুর্বলতা নিয়ে কখন, কতটুকু, কি ভাবে বলতে হবে অথবা না বলে এড়িয়ে যেতে হবে অথবা বডি ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে শো করতে হবে কি হবে না সেটা অবশ্যই জানতে হবে। আমি মনে করি কিছু না বলে হাল্কা অভিমানে বডি ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে জানালে তা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব। আর তাতে যদি না হয় তাহলে সয়ে যেতে পারলেই কেবল এক ছাদের নীচে থাকা যেতে পারে নচেত নয়!
যে সংসারে বিশ্বাস বেঁচে থাকে, সেখানে মতের অমিল থাকলেও সম্পর্ক ভেঙে পড়ে না। কারণ তারা জানে—সমস্যা মানুষ সৃষ্টি করে, আর বিশ্বাস মানুষকে সেই সমস্যার ঊর্ধ্বে উঠতে শেখায়।

বিশ্বাসকে তাই যত্নের সঙ্গে ধারণ করতে হয়। যেমন একটি চারাগাছকে নিয়মিত পানি দিতে হয়, আগাছা পরিষ্কার করতে হয়, ঝড় থেকে রক্ষা করতে হয়; তেমনি বিশ্বাসকেও সততা, সত্যবাদিতা, দায়িত্বশীলতা এবং সম্মানের আলো-বাতাসে প্রতিনিয়ত লালন করতে হয়। অবহেলায় যেমন গাছ শুকিয়ে যায়, তেমনি অবহেলা, মিথ্যা ও প্রতারণায় বিশ্বাসও একদিন নীরবে মৃত্যুবরণ করে। একবার বিশ্বাসে আঘাত লাগলে সেই ক্ষত সম্পূর্ণ মুছে যায় না। তাই বিশ্বাস ভাঙার আগে একবার নয়, শতবার ভাবা উচিত।

বিশ্বাসকে অর্জন করা একটি সাফল্য, কিন্তু বিশ্বাসকে লালন করা একটি আজীবনের সাধনা।

 

বিশ্বাসকে লালন করতে হয় || পলক রহমান।

আপ : ১২:০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

 

মানুষ সম্পর্ক গড়ে তোলে হৃদয়ের টানে, কিন্তু সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসের শক্তিতে। পৃথিবীর প্রতিটি সুন্দর সম্পর্কের গভীরে যদি একটি শব্দ খুঁজে নিতে হয়, তবে সেটি হবে—বিশ্বাস। এটি এমন এক অদৃশ্য বন্ধন, যা চোখে দেখা যায় না, অথচ তার উপস্থিতিই আজীবন সম্পর্ককের বন্ধনে নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্য বিলায়।

বিশ্বাস কোনো অলৌকিক ঘটনা নয় যে হঠাৎ করেই জন্ম নেবে। এটি গড়ে ওঠে সময়ের সঙ্গে, ছোট ছোট আচরণে, কথার সততায়, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধায়। প্রতিদিনের ব্যবহার, দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতাই বিশ্বাসের বীজকে একটি বিশাল বৃক্ষে পরিণত করে। আবার একটি মিথ্যা, একটি প্রতারণা কিংবা একটি দায়িত্বহীন আচরণ মুহূর্তেই সেই বৃক্ষকে শিকড়সহ নাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বিশ্বাস অর্জনের চেয়ে বিশ্বাস রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন।

তবে সব সম্পর্কেই বিশ্বাসের অর্থ এক নয়।কেননা এই বিশ্বাস এক এক পরিস্থিতি, সম্পর্ক ও অবস্থানের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সুক্ষ্মভাবে অনুভব করতে পারলে তার বুঝাপড়া ধারণ এবং লালণ করা সহজেই সম্ভব। অন্যথা সম্পর্কের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি থেকে সে সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এখানে মূল যে বিষয়গুলো নিয়ে জীবন এগিয়ে চলে সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে চাই। যেমন:
. বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে
. প্রেম ভালোবাসার ক্ষেত্রে
. বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষত্রে
উল্লেখিত প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস কেমন হবে তা পাতার পর পাতা লেখা যেতে পারে। তবে এখানে খুব স্বল্প পরিসরে এর অবশ্যকরণীয় ও পালনীয় বিষয়হগুলো কি কি তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

বন্ধুত্বের বিশ্বাস হলো নির্ভরতার নিশ্চয়তা। এমন এক আস্থা, যেখানে সুখের দিনে নয়, দুঃসময়ের অন্ধকারেও একজন আরেকজনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি থাকে। প্রকৃত বন্ধু সেই, যার কাছে নিজের দুর্বলতাও নির্ভয়ে তুলে ধরা যায়, কারণ প্রকৃত বন্ধু হলে সে তার দুর্বলতাকে বিচার করবে না বরং বুক দিয়ে আগলে রাখবে।

এখানেই পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে যায় যদি বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষত্রে কোন দুর্বলতা প্রকাশ করা হয়। তাই বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখতে হলে কার সাথে কোথায় কি কথা বলা যায় তার বুঝাপড়া থাকতে হবে। নইলে সমূহ বিপদ। বন্ধুত্বে ক্ষমা করার শক্তিশালী মানসিকতা থাকা বাঞ্চনীয়। তাই বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বন্ধুর অসুবিধা, দুর্বলতা, ভাব প্রকাশের অভাব গুলোকে আন্তরিকতার সাথে মেনে নিতে পারলে বন্ধুত্বে বিশ্বাস টিকে থাকে।

প্রেমে বিশ্বাস রক্ষা করা আরও সাধনার, আরও কোমল, আরও সংবেদনশীল। ভালোবাসার সৌন্দর্য কেবল অনুভূতিতে নয়, বিশ্বাসের গভীরতায়। যেখানে অকারণ সন্দেহ নেই, অযথা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নেই; আছে একে অপরের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান, প্রতিশ্রুতির প্রতি আনুগত্য এবং হৃদয়ের প্রতি হৃদয়ের অকুণ্ঠ আস্থা ও টান। বিশ্বাস হারিয়ে গেলে ভালোবাসা ধীরে ধীরে ভয়ে, অনিশ্চয়তায় এবং দূরত্বের আবরণে ঢেকে যায়।
এই প্রেম এবং ভালোবাসার মধ্যে একটা সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে। প্রেমে কামের অনুরক্ততা বিরাজমান। তাই তাকে উভয়ে দীর্ঘদিনের গভীর বিশ্বাসের আলোয় এনে পরখ করতে হয়। নইলে কোনক্রমেই বিশ্বাস টিকবে না। আর ভালোবাসার ক্ষেত্রে জটিলতা একটু কম হলেও আন্তরিক যোগাযোগ, প্রয়োজনে একতরফা যোগাযোগ রক্ষা করা ছাড়া বিশ্বাসকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

বৈবাহিক জীবনে বিশ্বাস সবচেয়ে পরিণত রূপ ধারণ করে। একে তাই টিকিয়ে রাখতে হলে নিজেকেও পরিনত হতে হয় গভীর ভাবে। এখানে দুটি মানুষ শুধু একসঙ্গে বসবাস করে না; তারা একে অপরের স্বপ্ন, দায়িত্ব, ব্যর্থতা, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎকেও ভাগ করে নেয়। তাই এই সম্পর্কে বিশ্বাস মানে শুধু বিশ্বস্ততা নয়; বরং সম্মান, সহমর্মিতা, স্বচ্ছতা এবং পরস্পরের প্রতি অবিচল নির্ভরতা।
তবে বৈবাহিক জীবনে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উভয়ের কোন ব্যাপারে দুর্বলতা। সেটা কি তা নিজেদেরকেই জানতে হবে, বুঝতে হবে। তো সেই সেই দুর্বলতা নিয়ে কখন, কতটুকু, কি ভাবে বলতে হবে অথবা না বলে এড়িয়ে যেতে হবে অথবা বডি ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে শো করতে হবে কি হবে না সেটা অবশ্যই জানতে হবে। আমি মনে করি কিছু না বলে হাল্কা অভিমানে বডি ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে জানালে তা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব। আর তাতে যদি না হয় তাহলে সয়ে যেতে পারলেই কেবল এক ছাদের নীচে থাকা যেতে পারে নচেত নয়!
যে সংসারে বিশ্বাস বেঁচে থাকে, সেখানে মতের অমিল থাকলেও সম্পর্ক ভেঙে পড়ে না। কারণ তারা জানে—সমস্যা মানুষ সৃষ্টি করে, আর বিশ্বাস মানুষকে সেই সমস্যার ঊর্ধ্বে উঠতে শেখায়।

বিশ্বাসকে তাই যত্নের সঙ্গে ধারণ করতে হয়। যেমন একটি চারাগাছকে নিয়মিত পানি দিতে হয়, আগাছা পরিষ্কার করতে হয়, ঝড় থেকে রক্ষা করতে হয়; তেমনি বিশ্বাসকেও সততা, সত্যবাদিতা, দায়িত্বশীলতা এবং সম্মানের আলো-বাতাসে প্রতিনিয়ত লালন করতে হয়। অবহেলায় যেমন গাছ শুকিয়ে যায়, তেমনি অবহেলা, মিথ্যা ও প্রতারণায় বিশ্বাসও একদিন নীরবে মৃত্যুবরণ করে। একবার বিশ্বাসে আঘাত লাগলে সেই ক্ষত সম্পূর্ণ মুছে যায় না। তাই বিশ্বাস ভাঙার আগে একবার নয়, শতবার ভাবা উচিত।

বিশ্বাসকে অর্জন করা একটি সাফল্য, কিন্তু বিশ্বাসকে লালন করা একটি আজীবনের সাধনা।