এবার বৃষ্টিতে আমি প্রগাঢ় নদী হব,
নাব্যতার নদী। দীর্ঘস্থায়ী একটানা বৃষ্টিতে উজান থেকে যতই গড়াক জল-
আমি ভাসতে দেব না পাড়ের জনপদ,
ফসলি খেত খামার, অবলা পশু পাখি।
এবার বৃষ্টিতে আমি বিস্তৃত মাঠ হব,
লক্ষ্মীজোলের মাঠ। আমার বুকে আঁকড়ে থাকা ধান, পাট, সব্জীর গাছ
বৃষ্টির জলে অবগাহন করতে করতে বেড়ে উঠবে, জলের আধারে খেলবে রঙিন পুঁটিমাছ, কৈ, টেংরা, শিং।
এবার বৃষ্টিতে গাঁয়ের ষষ্ঠী তলার মোড়ে প্রকান্ড বট গাছ হব। তার নীচে ছোট্ট চায়ের দোকানে বেঞ্চিতে বসে বঞ্চনার রাজনীতির গল্প নয়, বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় ধূমায়িত চায়ের কাপে হাস্যজ্বল কিষাণ কিষাণীর আড্ডায় হব বড়ু চন্ডীদাসের পদাবলী।
এবারের বৃষ্টিতে ধৈবত বর্জিত রাগ- রাগিনী হব। মিয়াঁকি মল্লার রাগ। বর্ষার জলে ভরা নদীর চঞ্চল স্রোতে একটানা সুর হব। ভাসা জলের বিস্তৃত মাঠে, গাছের পাতায়, ময়ূরী পাখায় ঝরে পড়া
বৃষ্টিতে হব দোতারার মিষ্টি সুর। এবার বৃষ্টিতে কবিতা হব, প্রাচুর্যের কবিতা।
১৮ জুন, ২০২৫









