কুরবানীর ঈদ এসে আকাশে দাঁড়িয়ে আছে।হাজারো চোখ মেলে আমাকে দেখছে সেই কবে থেকে। তবু আমার ভেতরে কোনো উৎসবের দোলা নেই। আমি যেন নিজেই কুরবানী হয়ে গেছি আগেই। আর কাতরাচ্ছি ছোপ ছোপ রক্ত মাখা ধূলোর ময়দানে সেই কবে থেকে।
চারিদিকে এত রক্ত আর নরপশু দেখতে দেখতে কুরবানীর পশুর রক্ত এখন আর শুধু ত্যাগের প্রতীক মনে হয় না। বরং মনে হয় মানুষের ভিতরের হিংস্র পশুটার কুরবানিই যদি না হল তাহলে এমন ঈদের উৎসব দিয়ে কি হবে আমার।
প্রতিদিন মানুষ মানুষকে খুন করছে। ধর্ষিত নাবালিকার খন্ড দেহ, শিশুর কান্না এখন সংবাদ পত্রের শিরোনাম। মায়ের বুকেও নেই কোন নিরাপত্তা, মানুষের ভেতরে দেখি না মমতা। দেখি কেবল শিকারির ক্ষুধা আর প্রতিহিংসার আগুন!
আমরা পশু কুরবানি দেই,
কিন্তু ভেতরের পশুটাকে বাঁচিয়ে রাখি যত্ন করে।
লোভকে পুসি, অহংকারকে বড় করি,
প্রতিশোধকে বুকের ভেতর ধারালো ছুরির মতো শান দিই প্রতিদিন। তাহলে কিসের কুরবানি?
ঈদ কি শুধু নতুন পোশাক আর পশু কুরবানি,
নাকি রক্তমাখা একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতা?
ঈদ তো হওয়ার কথা ছিল আত্মাকে পরিষ্কার করার নাম। নিজের ভেতরের অন্ধকারকে জবাই করার অদম্য সাহস আর দৃপ্ততা।
আমি তাই এবার সেই কুরবানির অপেক্ষায় আছি
যেখানে পশু হত্যা নয়, হত্যা হবে মানুষের ভেতরের জঘন্যতম পশু। যেখানে শিশুরা ভয় নয়, বড় হবে স্বপ্ন নিয়ে। যেখানে ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করবে না, মানুষের জন্য হবে ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়।
আমি তাই আকাশের দিকে চেয়ে সেই কুরবানী ঈদের আশায় এখন বসে থাকি, যেখানে কুরবানির রক্ত নয়, মানুষের হৃদয় ধুয়ে যাবে ভালোবাসায়। যেখানে গবাদি পশু জবেহ নয়, জবাই হবে মানুষের ভেতরে লুক্কায়িত হিংস্র ভয়ংকর পশু আর পাষন্ড বর্বরতা।























